Logo
Logo
×

সারাদেশ

সেন্টমার্টিনে দেশে প্রথম ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

সেন্টমার্টিনে দেশে প্রথম ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। খাবারের সংকট, রোগব্যাধি ও চিকিৎসার অভাবে এসব কুকুরের দুর্ভোগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বীপের কুকুরগুলোর নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রথম স্থায়ী কুকুর আশ্রয়কেন্দ্র। 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসার পাশাপাশি চলছে বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জার্মানি ও পেরুর দুই তরুণী।

মানবিকতার টানে জার্মানি থেকে সেন্টমার্টিনে এসেছেন জলপিয়া। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পেরুর জেসিকা মারিয়া। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কুকুর অপুষ্টি ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে প্রাণও হারাচ্ছে কিছু কুকুর। সীমিত সামর্থ্যের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষেও এত বিপুলসংখ্যক প্রাণীর দায়িত্ব নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রটিতে কুকুরের খাবার ও চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে বন্ধ্যাকরণ করা গেলে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি কমবে। এতে ভবিষ্যতে খাবার ও চিকিৎসার সংকটও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পেরুর জেসিকা মারিয়া বলেন, একটি স্ত্রী কুকুর বছরে একাধিকবার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে বন্ধ্যাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অনেক কুকুরের শরীরে টিউমার ও চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে। এসব রোগের কারণে প্রাণীগুলো প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।

জার্মানির জলপিয়া বলেন, রাস্তা থেকে অসুস্থ কুকুর উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু কুকুরের বন্ধ্যাকরণও করা হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে। তাঁর মতে, কুকুরের সংখ্যা কমলে তাদের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য দুর্ভোগও কমানো সম্ভব হবে।

জলপিয়া আরও বলেন, আগে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে তিনি শুনেছেন। এত বেশি কুকুরের কারণে তাদের নানা ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে বন্ধ্যাকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে। তবে অসুস্থ কুকুরের সংখ্যা দেখে তাঁর খারাপ লাগে। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও একেকটি কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আশ্রয়কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ। তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনে এসে কুকুরগুলোর অবহেলিত অবস্থা এবং কয়েকটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করে। তখনই দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।

কিশোর কুমার দাশ বলেন, কুকুরদের নিয়ে অনেকেই কথা বলেন, কেউ কেউ এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসাও করেন। কিন্তু প্রাণীগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। শুধু সাময়িক খাবার বা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কুকুরগুলোর জন্য স্থায়ী ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপের প্রকৃতি, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। কুকুরগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করতে চান তাঁরা।

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি সেল্টার। প্রতিটি সেল্টারে ১২টি করে কুকুর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কুকুরের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন দুই চিকিৎসক।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, আশ্রয়কেন্দ্রটির মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পরিকল্পিত চিকিৎসা ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন