কলমাকান্দায় পারিবারিক বিরোধে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দর্জি নিহত
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০) নামে এক দর্জি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের খাতে সালেঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন ওই গ্রামের আবুল হাশিমের ছেলে। তিনি পেশায় দর্জি ছিলেন। তার বাবা অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের দুরবীন মিয়া (৩৬), আজহার (২২) ও হাদিস (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতে সালেঙ্গা গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও এর সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদও যুক্ত হয়। নিহতের পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
শুক্রবার রাতে সেই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাদ্দামসহ চারজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ছেলে-মেয়েসংক্রান্ত একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নিহতের পক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সেসবের প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একটি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



