Logo
Logo
×

সারাদেশ

৫৮ বছরেও কাটেনি লিফটম্যান সংকট

শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

Icon

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম

শেবাচিমে ১৫ লিফটের ৭টিই বন্ধ, ভোগান্তি

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পুরাতন ও নতুন ভবনের ১৫টি লিফটের মধ্যে সাতটিই বন্ধ। প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছরেও হাসপাতালে কাটেনি লিফটম্যান সংকট। ফলে কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি, কোথাও আবার লিফটম্যানের অভাবে চলছে না লিফট। ফলে সচল লিফটগুলোতে বাড়ছে চাপ। রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত। অনেক অসুস্থ রোগীকে বাধ্য হয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ১০টি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে চারটি বন্ধ। মূল ফটকসংলগ্ন ৭ ও ৮ নম্বর লিফট দীর্ঘদিন ধরে অচল। লিফট দুটির সামনের মেঝেতেই শুয়ে কয়েকজন রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। ফলে ওই অংশে রোগীদের চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

৭ ও ৮ নম্বর লিফটের পাশে থাকা ৫ নম্বর লিফটটি চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য নির্ধারিত। ৬ নম্বর লিফটটি রোগী ও স্বজনদের যাতায়াতের পাশাপাশি খাবার ও ওষুধ ওঠানামার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ওই অংশে রোগী ও স্বজনদের যাতায়াতের চাপ সামলাতে কার্যত একটি লিফটের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ফটকসংলগ্ন ১ নম্বর লিফটেও একই অবস্থা। রোগী ও স্বজনদের পাশাপাশি খাবার পরিবহণ এবং চিকিৎসক-নার্সদের যাতায়াতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পাশের ২ নম্বর লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তবে কতদিন ধরে এটি অচল, সে বিষয়ে কর্মকর্তারাও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

পুরাতন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে থাকা ৯ নম্বর লিফটটিও লিফটম্যানের অভাবে অচল হয়ে আছে। পাশের ১০ নম্বর লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটির মেরামতকাজ চলছিল। লিফটম্যান ইউনুস বলেন, ‘লিফটম্যানের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি লিফট মেরামত করার দরকার হলেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’ এছাড়া সিসিইউ-দুটি লিফট সচল বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে পাঁচটি লিফটের মধ্যে তিনটিই বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসব লিফট অচল হয়ে থাকলেও সেগুলো সচল করার কার্যকর উদ্যোগ নেই। নতুন ভবনের লিফটম্যান আমান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিনটি লিফট বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই ভবনের ১৫টি লিফট তিন শিফটে পরিচালনার জন্য লিফটম্যান রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। অথচ প্রতিটি লিফট ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে তিন শিফটে অন্তত ৪৫ জন লিফটম্যান প্রয়োজন। সে হিসাবে লিফটম্যানের ঘাটতি ৩২ জন। জনবল সংকটের কারণে লিফট পরিচালনায় যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি বিকল লিফটগুলো দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবদুল্লাহ বলেন, লিফট বন্ধ থাকায় সিঁড়ি দিয়ে চারতলার ওয়ার্ডে যেতে হচ্ছে। অসুস্থ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা খুবই কষ্টকর। যাদের শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ, তাদের দুর্ভোগ আরও বেশি। দ্রুত লিফটের সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।

বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট রোগীদের চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের জন্য লিফট সচল থাকা জরুরি। প্রয়োজনীয় লিফটম্যান না থাকায় এবং বিকল লিফট মেরামত না হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীরের কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন