পাবনায় শ্রমিক লীগ ও শ্রমিক দলের দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম
পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুস সালাম ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রিপনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুস সালামের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন হোসেন (৪০) আতাইকুলা থানায় এলাকা ধর্মগ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে এবং পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি এবং আব্দুস সালাম (৫০) একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে এবং তিনি পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। রিপন হোসেন ও আব্দুস সালাম দুজনই হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং নিহত দুজন সম্পর্কে মামা-ভাগিনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পুষ্পপাড়া হাটের খাজনা আদায় শেষে সন্ধ্যায় হাটের ইজারাদারের রুমে বসে মিটিং করছিল তারা। এ সময় কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি করে। এ সময় দ্রুত উদ্ধার করে তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ঢাকা পোস্টকে জানান, নিয়মিত সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেননি।
পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু বলেন, নিহত রিপন দলের জন্য একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত শোকাহত। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সে বিষয়টি এখনো আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে আমাদের যা যা করণীয় আমরা করব।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার নেপথ্যের কারণ উন্মোচনে পুলিশ কাজ করছে।



