মনোহরগঞ্জে আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার আমতলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাটি বিক্রির অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সাব ঠিকাদার ৬নং মৈশাতুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকলে, সে বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. ইদ্রিছ, মৈশাতুয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজি এবং ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জামাল হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস মিয়া বলেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন আপনারা আমাকে খনন করা মাটি গুলি রাখার জায়গা ব্যবস্থা করে দিলে আমি মাটি রেখে দেবো, কিন্তু ওই মাটি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে তিনি মাটি অন্য জায়গা স্থানান্তর করেন।
ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক রবিউল হোসেন বলেন, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম আমাদের গ্রামবাসী সবাইকে নিয়ে বসেন এবং উপস্থিত সকলকে বলেন আপনারা আমাকে মাটি গুলি রাখার ব্যবস্থা করে দেন, কিন্তু আশেপাশে সে পরিমাণ জায়গা না থাকায় সকলের সম্মতিতে তিনি অন্যত্র মাটি সরিয়ে নেন
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে শুনেছি, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম আশেপাশে মাটি রাখার মত পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়েই মাটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে বৃহত্তর মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দুর্নীতি, অনিয়ম কিংবা কোন ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে আমি তার জবাব দিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলেন,একটি কুচক্রি মহল আমাকে মাননীয় এমপি মহোদয়ের কাছে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে, আমাকে নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা সহ এমপি মহোদয় কে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমতলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কাজের ঠিকাদারি নেওয়া এবং সেই কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব আমার। এ দায়িত্ব থেকে আমি পিছপা হতে চাই না।
নিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিছু ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান, রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে, ৫ আগষ্টের পর বিএনপিতে যোগদানকারী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম এমপি মহোদয়ের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইভাবে, প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ তাঁর সম্মানহানি করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন ও দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি বিচার চাই, প্রতিহিংসা নয়। আমি সত্যের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে।



