সাংবাদিক আলিফ হত্যা: পুলিশ হত্যা মামলার আসামি অপূর্ব গ্রেপ্তার
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ হত্যা মামলায় অপূর্ব (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে মামলা হওয়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পৌর শহরের পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, অপূর্ব এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অপূর্ব। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বহনের দায়িত্বেও তিনি ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যও ছিলেন।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঘটনার সময় আলিফ একটি দোকানের সামনে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআই শফিকুল হত্যা মামলার আসামি
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার পান মহালের একটি গলিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন এসআই শফিকুল ইসলাম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শফিকুল জামালপুর পুলিশ লাইন্সের বেতার শাখায় কর্মরত ছিলেন। ছুটিতে নিজ বাড়ি দুর্গাপুরে এসে তিনি হামলার শিকার হন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কেনাকাটা করতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অপূর্ব। তবে আগের মামলার সঙ্গে সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
জড়িত অন্যদের শনাক্তের দাবি
সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, সরাসরি হামলাকারী এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অপূর্বর গ্রেপ্তারকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ, হামলায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



