রাসায়নিক, দাহ্য রাবারের কারণে ভয়াবহ রূপ নেয় টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন: ফায়ার সার্ভিস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী স্কুইব রোডে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায়। ভবনে থাকা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং অ্যালুমিনিয়াম পেপারের নিচে ব্যবহৃত দাহ্য রাবারের কারণে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কারখানার একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ভবনটির সঙ্গে সিঁড়ির মাধ্যমে পাশের আরেকটি ভবনের সংযোগ থাকায় সেখানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
মহাপরিচালক বলেন, প্রথম ভবনে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিল। পাশাপাশি ভবনটিতে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম পেপারের নিচে থাকা রাবার অত্যন্ত দাহ্য। এসব দাহ্য পদার্থ দ্রুত জ্বলে ওঠায় আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
তিনি জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই আশপাশের স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও ছিল, আগুন যাতে চারদিকে ছড়িয়ে না পড়ে এবং যতটা সম্ভব কম ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুনের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট আগুন নির্বাপণ ও ড্যাম্পিংয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সেনাবাহিনীর কেমিক্যাল ডেঞ্জার ইউনিট এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মেডিকেল টিম ও রোবটও কাজে সহায়তা করছে। কারখানার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরাও উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে যেতে পারে। সেগুলো পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও সময় প্রয়োজন। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অগ্নিকাণ্ডে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, যে ভবনে প্রথম আগুন লাগে, সেটির চতুর্থ ও দ্বিতীয় তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য তলাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কারখানাটিতে পাউডার, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হতো। ভবনের ভেতরে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুন নেভানোর সময় বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে এবং আগুন দেখা যায়। এ সময় ক্লোরিনের গন্ধে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মীর শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। তবে প্রয়োজনীয় শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে কর্মীরা ভেতরে কাজ চালিয়ে যান।
মহাপরিচালক জানান, ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী স্কুইব রোডে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২ কারখানার একটি ভবনে আগুন লাগে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।



