কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত, অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট থেকে ২২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দখলদারির অবসানে স্বস্তি ফিরেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এখন বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নে বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালটে এ অভিযান চালানো হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে ২২টি অবৈধ স্থাপনা ও নির্মাণসামগ্রী অপসারণ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফ। এ সময় সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সেলিম বলেন, কলমাকান্দা মৌজায় বিদ্যালয়ের সামনের সরকারি হালট দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, জনস্বার্থ রক্ষা ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মিয়া, নৈঋতা পত্র নবিস ও ইনতিশার অরোরা ফারহাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট দখলমুক্ত করার দাবিতে তারা দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। অবশেষে প্রশাসনের অভিযানে তাদের দাবি পূরণ হওয়ায় তারা আনন্দিত। এ জন্য তারা উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, জমি দখলমুক্ত হওয়ায় এখন বিদ্যালয়ে সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশগেট স্থাপন এবং খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতাও কামনা করে তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সামনের সরকারি হালট দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। এ উদ্যোগ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা কামনা করছি।
বিদ্যালয়ের পিটিএ কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি ও সরকারি হালট দখলমুক্ত হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত। দখলমুক্ত জায়গা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জমিটি পুনরায় দখল হওয়া ঠেকাতে যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট, নতুন ভবন ও খেলার মাঠ নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া ও খেলাধুলার সুযোগ পাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা, খেলাধুলা ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। উচ্ছেদ করা জমি পুনরায় দখল ঠেকানো এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।



