যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কঠোর পাল্টা পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
মানবাধিকার ও মানবপাচারের অভিযোগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
শনিবার (১০ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে দেশটির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বৈরী নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য এ ধরনের প্রতিবেদনকে একটি কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত তথাকথিত মানবাধিকার প্রচারণা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচারবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে টানা ২৪তম বছরের মতো সর্বনিম্ন স্তর বা ‘টিয়ার-৩’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশটির বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের আগের মূল্যায়নগুলোতেও উত্তর কোরিয়ার বন্দি ও বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনা আবারও নতুন করে সামনে এসেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ভবিষ্যতে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



