হিমাগারে আলু রেখে লোকসানের মুখে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ এএম
হিমাগারে রেখে পরে ভালো দামে আলু বিক্রির আশায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তবে সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা হয়েছে। পরে দাম বাড়বে এমন আশায় অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না তারা। ফলে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু নিয়ে লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। পরে দাম বাড়লে খরচ উঠে লাভ হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এখন প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। সেই আলু ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।
রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব জানান, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকেরা আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। আলুর দাম সামঞ্জস্য রাখতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বাজারে আসার কথা। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় তা হচ্ছে না। তার দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে লোকসান আরও বাড়বে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।
জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকেরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় হিমাগার মালিকেরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকেরা জানান, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।



