বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়: সাবেক ছাত্রদল নেতার স্ট্যাটাস
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয় এমন মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতার ফেসবুক পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরআগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি স্ট্যাটাস দেন।
মাজহারুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, জল পাঠা সাংবাদিকের নিউজ হলো জলপরী নিউজ। কিছু কিছু সাংবাদিক দেখলে মনে হয় বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়।
ওই ছাত্রদল নেতা মাজহারুল ইসলাম নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও নরসিংদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত।
তার এমন মন্তব্যকে সাংবাদিকদের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুকুরে জলপরী দেখা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয় এবং গণমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে নিজের স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, সব সাংবাদিক সৎ কিংবা ভালো না, আমি সকল সাংবাদিককে বলিনি, কিছু সাংবাদিককে বলেছি। জলপরী পাওয়া গেছে এমন কোনো সংবাদ মূলধারার সাংবাদিকরা করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আসলে পুরো নিউজ পড়িনি কিংবা পুরো ভিডিও নিউজও দেখিনি। স্ক্রল করতে গিয়ে যেটুকু সামনে এসেছে, সেটুকুই দেখেছি।
শুধু তাই নয় জানা যায়, মাজহারুল ইসলাম আলোকবালী এলাকায় ইট, বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা করেন। এলাকায় কেউ বাড়িঘর করলে বাধ্যতামূলকভাবে তার থেকে ইট বালু সিমেন্ট নিতে হবে । অন্যথায় কেউ বাড়ি করতে পারবে না। রাজনীতিক প্রভাব ও বিএনপির দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তার নির্ধারিত দাম বা তার কাছ থেকে ইটা বালির না নিলে কেউ বাড়িঘর বা স্থাপনা করতে পারছে না উল্টো চাঁদা দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় পরোক্ষ মদদ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাখন দাস বলেন, সাংবাদিক সমাজকে অবমাননা করে এরকম মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিকদের গুলিয়ে ফেলেন, তারাই এমন শব্দচয়ন করে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। সাংবাদিকরা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। আমি এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্যকে ঘিরে বিষয়টি নিয়ে নরসিংদীর সাংবাদিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।



