ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের বাসের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিহত সাত যাত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুরের তিনটি গ্রামের পৃথক স্থানে জানাজা শেষে পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে নিহত সাতজনের দাফন করা হয়।
এর আগে, নিহতদের মরদেহ জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ও শরিফপুর ইউনিয়নে নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। একই পরিবারের চারজন এবং গার্মেন্টকর্মী ও নির্মাণশ্রমিক দম্পতিসহ সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া বাইপাস মোড়ে রাজিব পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশার চালক ও ছয় যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন, রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) এবং মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনান। শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাসিন্দা আকরাম হোসেন (৪৯) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)। আকরাম গাজীপুরে নির্মাণশ্রমিক এবং মমতা একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তারা এক মাস বাড়িতে ছুটিতে কাটানোর পর শুক্রবার অটোরিকশায় করে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। মৃত্যুকালে তারা দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। অপরজন হলেন রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দ গ্রামের অটোরিকশাচালক সুজন মিয়া।
শনিবার সকালে মোফাজ্জল হোসেন লেবু ও তার মায়ের জানাজা দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়ায় এবং দাফন পারিবারিক কবরস্থানে করা হয়। মর্জিনা বেগম ও তার ছেলে মিনানের জানাজা ও দাফন হয় মর্জিনার শ্বশুরবাড়ি ঘোড়ার কান্দা গ্রামে। আকরাম-মমতা দম্পতির জানাজা বাদেচাঁন্দি গ্রামের বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাদেচাঁন্দি সামাজিক কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। সুজন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয় বীর গোবিন্দ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে।
মরদেহ জামালপুরে পৌঁছানোর পর ঘটনার প্রতিবাদে নান্দিনা এলাকায় জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ঘাতক ‘রাজিব বাস’ চলাচল বন্ধের দাবি জানান। পরে জামালপুর থানার ওসি নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
নিহতদের জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। রানাগাছা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান কেরামতউল্লাহ উজ্জ্বলসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কে রাজিব বাসের অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া গতির কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক মাসেই রাজিব বাসের চাপায় অন্তত ১১ জনের প্রাণ গেছে। এলাকাবাসী ঘাতক চালকের বিচার, বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেস পরীক্ষা ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, দুর্ঘটনাস্থল ময়মনসিংহ সদরে হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা ময়মনসিংহ পুলিশই গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর পরই রাজিব পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।



