সমুদ্ররে সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আন্তর্জাতিক নতুন টার্মিনাল, পরীক্ষামূলক চালু
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ঝিনুক আকৃতির ছাদ। ওপরে স্টিলের কাঠামোতে সমুদ্রের ঢেউয়ের নকশা। এই যেন সমুদ্রের প্রতিচ্ছবি। সমুদ্র শহর কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক নতুন টার্মিনালের নকশাটি তৈরি হয়েছে সমুদ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই।
আর এটি সোমবার সকালে পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক নতুন টার্মিনালটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেয়া হলেও, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্যও প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বেবিচক।
বেবিচক বলছে, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে যাত্রীসেবা সক্ষমতা ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ লাখে। যাত্রীসেবার আন্তর্জাতিক মানের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে আধুনিক অবকাঠামো। রয়েছে প্রশস্ত অ্যাপ্রোনও। ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটারের এই অ্যাপ্রোনে একসঙ্গে রাখা যাবে দুটি ওয়াইডবডি ও তিনটি ড্যাশ-এইট উড়োজাহাজ। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতার মান যাচাই শেষে, এই বিমানবন্দর পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের সনদও।
ইন্টারন্যাশনাল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আন্তর্জাতিক টার্মিনালের কার্যক্রম চালু হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তার জন্য যেসব ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তার সবকিছুই এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশের তিন বাহিনীর মধ্যে দুটি বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসারসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। কক্সবাজার যেহেতু দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা এবং দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন, তাই যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বিমান ভ্রমণ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন এই বিমানবন্দরে ওঠানামা করছে ৫৪টি উড়োজাহাজ।
নতুন টার্মিনালের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট পর্যটক ও যাত্রীরা।
ঢাকা যাত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন টার্মিনাল দিয়ে যাত্রা করতে পারব-বিষয়টি সত্যিই অবাক করার মতো এবং আনন্দের। গতকাল রাতে হঠাৎ এসএমএস পেয়ে জানতে পারি, আমাদের নতুন টার্মিনাল দিয়েই যেতে হবে। অনেক বছর ধরে কক্সবাজারে আসি এবং টার্মিনালটির নির্মাণকাজ দেখেছি, কিন্তু কবে চালু হবে তা নিশ্চিত ছিলাম না। আজ সকালে প্রথম দিকের ফ্লাইটে নতুন টার্মিনাল ব্যবহার করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।
সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, এখানে আন্তর্জাতিক বহির্গমনে চারটি এবং আগমনে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার। লাগেজ পরিবহনে রয়েছে দুটি বেল্ট। সঙ্গে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে, সিসিটিভি ও ভারী হ্যান্ডব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সুবিধা। ডিউটি ফ্রি শপ থেকে বোর্ডিং ব্রিজ; যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রাখা হয়েছে আধুনিক নানা ব্যবস্থা। রয়েছে লিফট, এস্কেলেটর ও চেক-ইন কাউন্টার। আগমন ও বহির্গমনের জন্য রয়েছে আলাদা ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও লাউঞ্জ।
অবকাঠামোর সঙ্গে সেবার মানও যাতে বজায় থাকে; সেই প্রত্যাশা করেছেন ঢাকা থেকে আসা যাত্রী শিহাবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি পেশায় একজন স্থপতি। কাজের কারণে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে নিয়মিত দেশের বাইরে বিভিন্ন বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারেও আমরা প্রায় প্রতিবছর দুই-তিনবার আসি। এখন পর্যন্ত যা দেখছি, নতুন এই টার্মিনালটি খুবই সুন্দর একটি উদ্যোগ ও স্থাপনা। একটি বিমানবন্দরে চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ইমিগ্রেশন, বোর্ডিংসহ নানা ধরনের কার্যক্রম থাকে। সেদিক থেকে এখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমগুলো বেশ ভালোভাবেই করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তবে একটি স্থাপনা যতটা ভালোভাবে তৈরি করা হয়, সেটি দীর্ঘদিন ভালো রাখার বিষয়টি নির্ভর করে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। আমার প্রত্যাশা থাকবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ও যথাযথভাবে এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। আজ যেভাবে সবকিছু নতুন ও সুন্দর লাগছে, এই সৌন্দর্য ও সেবার মান যেন বছরের পর বছর বজায় থাকে।”
১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজার বিমানবন্দর দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসে এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন রানওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা রয়েছে।



