চোর নন, তিনি পরিস্থিতির শিকার এক অসহায় বাবা
যুগের চিন্তা24 ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
পেশাদার কোনো অপরাধী বা চোর নন, বরং ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর পরিস্থিতির নিষ্ঠুর শিকার তিনি। যার নাম অনিক শিকদার। সম্প্রতি এক ভিডিওর মাধ্যমে তাকে 'চোর' হিসেবে চিনেছিল সাধারণ মানুষ। তবে সেই অন্ধকারের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক অসহায় বাবার করুণ বাস্তবতার গল্প এবার সামনে এসেছে।
অনিক শিকদারের বাবা ছিলেন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষ। বাবার কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি একসময় সবকিছু হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পরিবারটির এই আকস্মিক বিপর্যয়, মানসিক ধাক্কা আর চরম অসহায়ত্ব সহ্য করতে না পেরে অনিক একপর্যায়ে নেশার ঘোরে জড়িয়ে পড়েন। আর তার এই অসহায়ত্বের সুযোগটাই নেয় স্থানীয় এক মাদক সিন্ডিকেট।
তবে সেই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটতে চলেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর ডঅই (ওয়াব) ঋড়ঁহফধঃরড়হ-এর একটি টিম তাৎক্ষণিকভাবে উজিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ছুটে যায় অনিকের বাড়িতে। সেখানে দেখা মেলে অনিকের ছোট্ট ও মিষ্টি মেয়ে তুবার সাথে। তুবা কোনো অর্থ বা সাহায্য চায়নি; সে শুধু চেয়েছে তার বাবার জন্য একটি সৎ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক, যাতে সমাজ তার বাবাকে আর 'চোর' বলে ডাকতে না পারে। মেয়ে তুবার এই আকুতি এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাবা অনিক শিকদারও এখন অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ব্যাকুল।
সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, তুবার বাবার আলোর পথে ফেরার এই লড়াইয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে ডঅই ঋড়ঁহফধঃরড়হ। পাশাপাশি উজিরপুর থানার ইন্সপেক্টর এই মানবিক উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা ও নিয়মিত দেখাশোনার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।
যেহেতু তারা গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন, তাই অনিক শিকদার সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার জন্য একটি অটোভ্যান চেয়েছিলেন। তার এই চাওয়াকে সম্মান জানিয়ে ডঅই ঋড়ঁহফধঃরড়হ-এর পক্ষ থেকে তাকে একটি নতুন অটোভ্যান কিনে দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে ছোট্ট তুবার পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্বও আনন্দের সাথে লুফে নিয়েছে সংস্থাটি।
কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ঠিকই বলেছিলেন, “পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই।” অনিক শিকদার হয়তো পরিস্থিতির চাপে পথ হারিয়েছিলেন, কিন্তু মেয়ে তুবার নিঃশর্ত ভালোবাসাই আজ তাকে নতুন জীবন এনে দিল। অপরাধের পেছনে লুকিয়ে থাকা মানুষের এই অসহায়ত্ব দূর করতে পারলে সমাজটা সত্যিই বদলে যাবে—উজিরপুর থানা পুলিশ এবং ওয়াব ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



