চিরিরবন্দরে বিতরণ করা চারার মান নিয়ে অভিযোগ, অধিকাংশ চারা নষ্ট
চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে বিতরণ করা ফলজ চারার মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের অধিকাংশ চারাই ছিল নিম্নমানের ও রোগাক্রান্ত। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত সার, গাছের খুঁটি ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চিরিরবন্দর উপজেলার সরকারি স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ২৬০টি ফলজ চারা বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণের পর থেকেই চারার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভালো জায়গায় রোপণ ও পরিচর্যা করার পরও কয়েক দিনের মধ্যে অনেক চারা মারা যায়।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রোপণ করা চারার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মারা গেছে। অনেক গাছে কোনো খুঁটি দেওয়া হয়নি।
কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো এত নিম্নমানের ছিল যে ভালো জায়গায় লাগানোর পরও মারা গেছে।
একই অভিযোগ করেন উচিৎপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মমিন ইসলাম। তিনি বলেন, চারাগুলো লাগানোর কয়েকদিন পরেই মারা যায়।
তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা একই নয়। খেড়কাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী বেগম বলেন, কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো আমাদের ভালোই দিয়েছে।
অন্যদিকে বিঝট্রি উন্নয়ন গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কৃষি অফিস থেকে আসা চারাগুলো এত নিম্নমানের ছিল যে আমি সেগুলো নিইনি।
চারা ও প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি চলমান প্রকল্প। আমরা আপনার অভিযোগটি মানতে পারছি না। চারাগুলো আমি একাই বিতরণ করিনি। উপজেলা কমিটিসহ আমরা ভালো মানের চারা, সার ও খুঁটি বিতরণ করেছি।
প্রকল্পে ২ হাজার ২৬০টি চারা রোপণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বরাদ্দের বিষয়ে জানতে চাইলে লিখিত আবেদন দেন, তাহলে তথ্য পাবেন।
এ বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেহা তূজ জোহরা বলেন, গাছগুলো আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাওলায় দিয়েছি। গাছগুলো যদি মারা যায়, তাহলে সেগুলোর দেখভালের দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আমরা গাছগুলো আবার রিপ্লেস করে দেব।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য সফল করতে চারা বিতরণের আগে তার মান যাচাই, সঠিকভাবে রোপণ এবং পরবর্তী পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।



