নারায়ণগঞ্জে স্কুল পালিয়ে মেঘনা নদীতে নেমে জমজ ভাইসহ ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে জমজ দুই ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের সঙ্গে পানিতে নামা আরেক শিক্ষার্থী বেঁচে গেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদী ও কাশবন সংলগ্ন স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
জমজ ভাই আশেকিন (১৫) ও আরেফিন (১৫) সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার ফারুক আহম্মেদের ছেলে। তারা মোগরাপাড়া সরকারি স্কুলের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহত অপরজন আবির (১৪) একই স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ (১২) এই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়েন। তিনি জমজ আশেকিন ও আরেফিনের চাচাতো ভাই।
আদিয়ান ফারিজ বলেন, ‘আমরা আজ স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাশবন দেখতে গিয়েছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসলে নামি। আমি তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে গেছি। আমার চাচাতো দুই ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদী পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। আমি চিৎকার শুরু করায় লোকজন এগিয়ে আসে এবং পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।’
এলাকাবাসীরা জানান, সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আশেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করে। আধা ঘণ্টা পর অপর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়৷
সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাহেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে ৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আধা ঘণ্টা ব্যবধানে অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’



