সারের দাবিতে কুড়িগ্রামে ফের মহাসড়ক অবরোধ-কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
কুড়িগ্রামে আবারও সারের দাবিতে সড়কে নেমেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পাওয়ার অভিযোগে প্রায় এক ঘণ্টা কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এ সময় ডিলার পয়েন্টে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ এবং ঘোগাদহ এলাকায় সার ডিলারকে ধাওয়া করার ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাঠের পাড়ে মেসার্স এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও যথাসময়ে সার বিতরণ করা হচ্ছিল না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
একই সময়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নেও সার বিতরণ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকেরা সাইফুর রহমান নামে এক সার ডিলারকে ধাওয়া করেন।
এ সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ কৃষকদের সার নিতে লাইনে দাঁড়ানোর কথা বললে তাঁর সঙ্গে কৃষকদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে কৃষকেরা ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ইন্ধনে কিছু ডিলার রাতের আঁধারে বরাদ্দের সার কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করছেন। ফলে ডিলার পয়েন্টে কৃষকেরা সার না পেলেও খুচরা বাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, খুচরা দোকানে কেজিপ্রতি সার ৪৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে।
তবে কৃষকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, সার বিতরণের সময় নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের লাইনে দাঁড়াতে বললে তাঁদের সঙ্গে বিতর্ক হয়। পরে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশের একটি দল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা আফরীন বলেন, ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত ১০০ বস্তা সার দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের তুলনায় ওই সব পয়েন্টে অতিরিক্তসংখ্যক কৃষক ভিড় করায় হট্টগোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের সহযোগিতায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। চলতি মৌসুমে বেগুন ও ভুট্টা চাষ বেশি হওয়ায় কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ১ হাজার মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে সেই সার বিতরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু ডিলার সার দিতে বিলম্ব করায় কৃষকেরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ডিলারদের মাধ্যমে সার নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজির সুযোগ নেই। সার নিয়ে যারা অনিয়ম বা ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।



