শেরপুরে মজুমদার ফুডের পানির পাইপ ফেটে ধানের জমিতে ক্ষতি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের বর্জ্যপানি বহনকারী পাইপ ফেটে একটি আমন ধানের জমিতে পানি পড়ে ধানগাছের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধানের জমিতে সাদা লবণের মতো স্তর জমে থাকার কথাও জানিয়েছেন জমির সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পানি বাঙালী নদীতে ফেলার কারণে নদীর মাছ কমে যাওয়া ও মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের পানি ছোনকা এলাকা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চোমরপাথালিয়া এলাকায় বাঙালী নদীতে ফেলা হয়। গত রোববার ছোনকা দক্ষিণপাড়ার একটি ধানের জমির পাশ দিয়ে যাওয়া ওই পাইপ ফেটে পানি জমিতে পড়ে। এতে জমিতে রোপণ করা আমন ধানের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ধানের ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে সাদা লবণের মতো স্তর জমে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনার পর মঙ্গলবার মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের প্রতিনিধি সোহরাব আলী চারজন কর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপটি মেরামত করেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের এইচআর ম্যানেজার রঞ্জন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা ইটিপির মাধ্যমে পানি পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে নদীতে ফেলছি।”
ধানগাছের ক্ষতি হয়ে থাকলে একই পানি নদীতে পড়ার কারণে নদীর মাছের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ধানের ক্ষতি হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।”
এদিকে, মজুমদার ফুড প্রোডাক্টসের পানি বাঙালী নদীতে পড়ার পর নদীর মাছ কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন চোমরপাথালিয়া গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, “মজুমদার কোম্পানির পানির কারণে নদীর মাছ অনেক কমে গেছে। মাছ মারা যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্যপানি নদীতে নিঃসরণের ফলে পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধানের জমিতে পাইপ ফেটে পানি পড়ার ঘটনায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।



