নরসিংদীতে লুণ্ঠিত পিকআপসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবাহী পিকআপ ভ্যানে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি পিকআপ ভ্যান, ডিমের ৯৮টি খালি ক্যারেট, ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রায়হান সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো-নোয়াখালীর সেনবাগ পৌর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে জসিম উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে ইমন (২৮), একই এলাকার মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিফাত হৃদয় (২৮), কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ভূঁইয়ারপাড় এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে রহমত আলী (জিল্লুর) এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুন্না (রুমান)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ইসমাইল হোসেনের বাড়ির সামনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি পিকআপে করে আসা ডাকাতরা ডিমবাহী আরেকটি পিকআপের গতিরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়িটির চালক ও তার সহযোগীকে হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত পিকআপে তুলে নেয়। এরপর তাদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে রেখে ডিমবাহী পিকআপটি নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
এ ঘটনায় ডিমবাহী পিকআপের মালিক মো: মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। মামলার পর নরসিংদীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা ও ডাকাত দলের সদস্যদের পূর্বপরিচিত জসিম উদ্দিনের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিকআপ ভ্যান, ডিমের ৯৮টি খালি ক্যারেট এবং ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



