Logo
Logo
×

সারাদেশ

কক্সবাজারে ‌‘ফিফা সার্টিফাইড টেকনিক্যাল সেন্টার’ নিমার্ণে জমি পেল বাফুফে

Icon

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

কক্সবাজারে ‌‘ফিফা সার্টিফাইড টেকনিক্যাল সেন্টার’ নিমার্ণে জমি পেল বাফুফে

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। ৪ বছরের প্রচেষ্টা শেষে কক্সবাজারের রামুর রশিদনগরে ফিফার অর্থায়নে ‘ফিফা সার্টিফাইড টেকনিক্যাল সেন্টার’  নিমার্ণের জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছে বাফুফে।

সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোনস্থ এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

অনুষ্ঠানে বাফুফের পক্ষে জমি রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। অপরদিকে সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। পরে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় দলিলপত্র বাফুফে সভাপতির হাতে তুলে দেন।

পরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাফুফে চেয়ারম্যান তাবিত আউয়াল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রামু উপজেলায় ফিফা সার্টিফাইড টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি বাফুফের কাছে হস্তান্তর করেছে।

তিনি বলেন, রামুতে আন্তর্জাতিকমানের ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান ফুটবলাররা এখানে আধুনিক ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এই টেকনিক্যাল সেন্টার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ফুটবলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশাবা ব্যক্ত করে বাফুফে চেয়ারম্যান তাবিত আউয়াল বলেছেন, “ জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের তরুণ ফুটবলার তৈরিতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। “

জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠান জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান ও বাফুফের উর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে বাফুফের সাবেক সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সময়ে কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় রামুর খুনিয়াপালং এলাকায় ২০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কারণে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আপত্তি ওঠে। ফলে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার আগের বরাদ্দ বাতিল করে বিকল্প জায়গা খুঁজতে নির্দেশ দেয়। এতে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শেষ পর্যন্ত নতুন জায়গা নির্ধারণ করে সেই জটিলতার অবসান হয়েছে। ফিফার শর্ত অনুযায়ী বাফুফে দীর্ঘমেয়াদি লিজের ভিত্তিতে জমিটি ব্যবহার করবে। জমি পাওয়ার পর টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাবিত আউয়াল।

সূত্র বলছে, ফিফার অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বড় শর্ত ছিল জমির দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা বা দখল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বাফুফের নামে অন্তত ২০ বছরের স্থায়ী মালিকানা বা দখল না থাকলে এ ধরনের অনুদান পাওয়া সম্ভব নয়। সেই শর্ত পূরণ করে রামুর বরাদ্দকৃত জমি প্রথম ধাপে ৩০ বছরের জন্য লিজ পেয়েছে বাফুফে। ভবিষ্যতে এই লিজের মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৯৯ বছর পর্যন্ত করার সুযোগও রয়েছে।

ফলে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে এখন টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বাস্তব কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণ, জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রতিভা তৈরিতে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা বাফুফের।

বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদউদ্দীন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য সরকার বিশেষ বিবেচনায় প্রতীকী মূল্যে জমিটি বরাদ্দ দিয়েছে। এক লাখ এক টাকা প্রতীকী মূল্য ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। জমি হস্তান্তরের পর টেকনিক্যাল সেন্টারের নির্মাণ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করবে বাফুফে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক এই টেকনিক্যাল সেন্টারে থাকবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ, খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য দুটি চারতলা ডরমিটরি, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা, ক্যানটিন এবং কনফারেন্স কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

ক্রীড়াপ্রেমীদের আশা, এই টেকনিক্যাল সেন্টার দেশের ফুটবলের উন্নয়ন, খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য ইয়াছির আরাফাত বিপু বলেন, ‘ক্রীড়া হল পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’-এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়া উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রামুতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ১৫ দশমিক ২০ একর জমি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হল। এটি কক্সবাজারবাসী ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর।

তিনি বলেন, এই মাঠে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হলে কক্সবাজার থেকে আরও প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসবে। জিকু, ইব্রাহিম ও সুশান্তের মতো খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কক্সবাজার থেকে মানসম্মত খেলোয়াড় তৈরিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা ফুটবল খেলোয়াড় সমিতির সভাপতি এম. জাহেদ উল্লাহ বলেন, কক্সবাজারের রামুর রশিদনগরে ফিফার অর্থায়নে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রায় আট কোটি টাকা মূল্যের জমি মাত্র এক লাখ এক টাকা প্রতীকী মূল্যে বাফুফেকে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবলের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। যতটুকু আমরা জানতে পেরেছি, এই টেকনিক্যাল সেন্টারে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ, খেলোয়াড়দের আবাসন এবং অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে। এটি শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের ফুটবলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এম. জাহেদ উল্লাহ আরও বলেন, এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মিত হলে কক্সবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। এখান থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো খেলোয়াড় তৈরি হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আলাউদ্দিন বলেন, টেকনিক্যাল সেন্টারে তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারদের আধুনিক ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এখানে ফুটবলের বেসিক থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পর্যায়ের টেকনিক্যাল ও স্কিলভিত্তিক প্রশিক্ষণ-থিওরিটিক্যাল ও প্র্যাকটিক্যাল দুইভাবেই দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, একজন দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে এ ধরনের টেকনিক্যাল সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারে দেশের এমন একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে শুধু স্থানীয় নয়, সারাদেশের প্রতিভাবান ফুটবলাররা এখানে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে বলে আমরা আশা করি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন