রূপগঞ্জে ভূমিদস্যুতা বন্ধের দাবিতে ১০ গ্রামের সভা
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নে নামীয় আবাসনের নামে অবৈধ বালু ভরাট, জোরপূর্বক তিন ফসলি কৃষি জমি ও পৈতৃক ভিটা-মাটি দখল এবং ঐতিহাসিক 'ইছাখালী খাল' উদ্ধারের দাবিতে মাঝিনা মাদরাসায় ১০ গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে প্রতিবাদ সভা ও ঝাড়ু মিছিল করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে উপজেলার মাঝিনা মাদরাসা মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ১০১ সদস্যের ভিটে রক্ষা কমিটি করেন ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আবু বকর সিদ্দিক, নরসিংদী জেলা কোর্টের পেশকার মো. শামসুদ্দিন মিয়া, পাট শিল্পমন্ত্রণালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হাসেন আলী বেপারী, আহসান আলী মাস্টারসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
সভায় ইছাখালী, মাঝিনা, মাইলাব, হরিনা, পশ্চিমগাঁও, বড়ালু, পাড়াগাঁও, উল্লাবো ও ছাতিয়ানসহ কয়েকটি গ্রামের জমির মালিকদের নিয়ে ১০১ সদস্যের সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় উত্থাপিত স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ২০১০ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে কোনো ধরনের আইনি অধিগ্রহণ বা জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই ১৭টি মৌজার প্রায় ৭,০০০ বিঘা কৃষি জমি ও পৈতৃক বসতভিটা দখলের অপচেষ্টা চালানো হয়। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের ওপর হামলা, মামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক খননকৃত ঐতিহাসিক 'ইছাখালী খাল' অবৈধভাবে বালু ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়ায় আশপাশের প্রায় ৫টি গ্রামের মানুষ চরম পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই খালটি নৌচলাচল, সেচ এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বক্তারা বলেন, এর প্রতিকারে রূপগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী পরিবার ও জমির মালিকদের পক্ষ থেকে শতাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের, থানা অভিমুখে মানববন্ধন, ইউএনও ও ডিসি কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এ সময় 'ইছাখালী খাল' থেকে অবৈধ বালু অপসারণ করে খালটি পুনখনন এবং পূর্বের অবস্থায় চালু করার দাবী করেন তারা।



