স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিচার না হলে কেরসিন ঢেলে স্বপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিচার না হলে রাস্তায় নেমে লাইভে এসে শরীরে কেরসিন ঢেলে স্বপরিবারে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছে প্রবাসীর পরিবার। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী পৌর পার্কে জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী লুৎফর রহমান এর পরিবার তার বিচার চেয়ে এ মানববন্ধন করেন।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লা। তিনি নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক আইনবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও নানা অপকর্মের কারণে গত ২৫ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মোঃ ফারুক হোসাইন এর স্বাক্ষরীত এক আদেশে অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মোল্লাকে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহত দেয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে প্রবাসীর ছোট বোন শাহিদা আক্তার বলেন, আমরা বিএনপি পরিবারের সন্তান এবং বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। আমরা নরসিংদীতে আন্দোলন করেছি এবং আমার বড় ভাই লুৎফর রহমান প্রবাসে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করার কারণে আমার ভাইকে সে দেশে জেলও খাতটে হয়েছে। তারপরও এখন আমরা কোন বিএনপি দলীয় নেতার দ্বারাই নির্যাতিত হবো, এটা কি সহ্য করা যায়?
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আর যদি আমাদের পরিবার নিরাপত্তা না পায় এবং নয়ন মোল্লার বিচার না হয় তবে আমাদের পুরো পরিবার রাস্তায় নেমে লাইভে এসে শরীরে কেরসিন ঢেলে আত্মহত্যা করবে এবং এই মৃত্যুর জন্য সরকার ও সরকার দলীয় নেতারা দয়ী থাকবেন। কারণ নয়ন বলে বেড়াচ্ছে যে, ‘তারেক রহমানেরও’ নাকি তার বিচার করার ক্ষমতা রাখে না। তার এত ক্ষমতার উৎসটা কোথা থেকে এলো। আমাদের যেহেতু নিজেদের জীবনের নিরাপত্তাই নেই, অন্যের হাতে মৃত্যুর চেয়ে নিজের জীবন নিজেরাই দিয়ে দিবো। তবুও মানুষ জানবে বিচার না পাওয়ার কারণে নিজের জীবন নিজে নিয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, নরসিংদী মডেল থানা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে লিখিত অভিযোগ করিনি। তবে কোথাও থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছি না। এমনভাবে চলতে থাকলে আমাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি বলেন, সে একজন স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অপরাধী, যার কারণে তার এপিপি পদ হারিয়েছে। আমরা চাই তার মত অপরাধীদের বারের সনদও বাতিল করা হোক। তার সনদ বাতিল হলে সে প্রভাবখাটিতে আমাদের হয়রানী আর করতে পারবে না।
এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ভুক্তভোগীর ছোট বোন শাহিদা আক্তার, সফিকুল ইসলাম, রুমি বেগম, শাহীদা বেগম, রেবেকা বেগম, মোঃ জিয়া, তোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।
পরিবারের অভিযোগ, কোর্টে মামলা করার সুবাদে নয়ন মোল্লার সাথে প্রবাসী লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী হাফসা বেগম এর পরিচয় হয়। পরে নয়ন মোল্লা প্রবাসীর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে ও ফুসলিয়ে প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন। একপর্যায়ে স্ত্রী হাফসা বেগম প্রবাস থেকে লুৎফর রহমানের বিভিন্ন সময় পাঠানো ১ কোটি ১০ লাখ নগদ টাকা এবং ৩৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নয়ন মোল্লার সঙ্গে সম্প্রতি পালিয়ে যান। ঘটনাটি গত ৩ আগস্ট প্রবাসে থেকে লুৎফর রহমান জানতে পেরে দেশে ফিরে আসেন।



