যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ: সিসিটিভিতে মিলল হামলার দৃশ্য
কেরাণীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
চাঁদাবাজি ও দখলদারির নতুন হটস্পট হিসেবে সামনে আসছে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জ। রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহাদাত হোসেন কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাদাত। বিএনপির হাইকমান্ড বলছে, এসব বিষয়ে দলটির অবস্থান জিরো টলারেন্স।
৫ আগস্টের পর নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলদারির হটস্পট হিসেবে যেসব এলাকার নাম সামনে আসছে, তার অন্যতম মোহাম্মদপুর ও কেরাণীগঞ্জ।
বালু উত্তোলন, জমি দখল, নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে মারধরসহ কাজ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটছে।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেরাণীগঞ্জের একটি আবাসন প্রকল্পে দলবল নিয়ে প্রবেশ করছেন বেশ কয়েকজন। সেখানে ঢুকেই ভেঙে দেয়া হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। এরপর নিরাপত্তাকর্মীসহ শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সন্ত্রাসীরা। সেই মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা শাহাদাত হোসেনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম চালানো হয়। যদিও ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি।
প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেন, আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই যে, আমরা কোনো ধরনের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করব না। পরবর্তীতে ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর শাহাদাত একটি গাড়িতে করে প্রায় ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
কেরাণীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের অনেকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর নতুন করে কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছেন শাহাদাত। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় দখল, আধিপত্য, চাঁদাবাজিসহ মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
এসব বিষয়ে যুবদল নেতা শাহাদাতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন, সবই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
শাক্তা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র ভাই। আমরা এ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছি, আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে পারলে তাদের লাভ হবে। হয়তো আওয়ামী লীগ আবার সক্রিয় হতে পারে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী যদি বলতে পারে যে, হ্যাঁ, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে, তাহলে আমাকে যেভাবে ব্যবস্থা নিতে বলবেন, আমি নেব।
যদিও বিএনপির হাইকমান্ড চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে ঘটনাগুলো আমরা শুনেছি, দল সে সব বিষয়ে শক্ত হাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নানা ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ হয়। এগুলোর সঙ্গে যদি কেউ যুক্ত থাকে, এ ব্যাপারে একেবারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে বিএনপি।
বরাবরের মতোই ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধে কাজ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে, সঙ্গে সঙ্গে আমরা ইন্টারফেয়ার করব। সুতরাং আমাদের যেটা লক্ষ্য, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা আমরা সেটাই করব।
কেরাণীগঞ্জে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ রয়েছে।



