ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
মনোহরগঞ্জে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন।
কিন্তু আর দশটা সাধারণ বিদায়ানুষ্ঠানের মতো ছিল না এই আয়োজন। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত রাজকীয় গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানাল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকবাসী।
আজ সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রিয় শিক্ষককে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফুল ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেয়। আলোচনা সভায় বক্তারা তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি কেবল একজন ভালো শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও একজন খাঁটি মানুষ। সভা শেষে তাঁর হাতে স্মারক সম্মাননা ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা শেষে শুরু হয় বিদায়ের মূল আকর্ষণ। রঙ-বেরঙের ফুল, বেলুন ও ফিতা দিয়ে রাজকীয় সাজে সাজানো হয় গাড়িটি। বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এবং এলাকাবাসী ঢাক-ঢোল ও পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে গাড়িতে বসিয়ে বিদায়ী শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাঁকে সসম্মানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়।
শিক্ষকের বিদায়ের মুহূর্তটিতে এক আবেগঘন ও বর্ণিল আবহ তৈরি হয়। রাস্তার দুই পাশের সাধারণ মানুষও প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই শোভাযাত্রায় হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
বিদায়বেলায় অশ্রুসজল চোখে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, "শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন বিরল ভালোবাসা ও সম্মান পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এই রাজকীয় সম্মান আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। শিক্ষকতা জীবন যে কতটা সার্থক হতে পারে, তা আজ আমি অনুভব করলাম।"
শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় অভিভাবকরা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রিয় শিক্ষকের শিক্ষা ও নীতিবোধ চিরকাল আলোর দিশারী হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত সকলে।



