Logo
Logo
×

সারাদেশ

নরসিংদীতে দুই বয়স্ক ভাতাভোগীর টাকা যাচ্ছে ইউপি সদস্যের স্ত্রী-ছেলের পেটে

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

নরসিংদীতে দুই বয়স্ক ভাতাভোগীর টাকা যাচ্ছে ইউপি সদস্যের স্ত্রী-ছেলের পেটে

নরসিংদীর মনোহরদীতে দুই বয়স্ক ভাতাভোগীর বরাদ্দের টাকা ইউপি সদস্যের স্ত্রী ও ছেলের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তিনি চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

মনোহরদী উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি তিন মাস পরপর প্রত্যেক ভাতাভোগীর নামে ১ হাজার ৯৬১ টাকা করে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর ধরে ওই দুই ভাতাভোগীর নামে বরাদ্দ করা মোট ১৫ হাজার ৬৮৮ টাকা ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমানের স্ত্রী ও ছেলের নম্বরে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী দুজন হলেন চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা মো. আজিজুল হক তালুকদার ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে আজিজুল হক তালুকদার ও তাঁর স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেন ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান। পরে ভাতার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁদের ভাতা হয়নি বলে জানান তিনি। সম্প্রতি স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য ফেরদৌসী বেগম তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে যাচাই-বাছাই করলে বিষয়টি সামনে আসে। বয়স্ক ভাতার তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আজিজুল হক তালুকদার ও হোসনে আরা বেগমের নামে বয়স্ক ভাতার টাকা বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়েছে।

তালিকায় আজিজুল হক তালুকদারের নামে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের জায়গায় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. অমিত হাসান অমির নম্বর এবং হোসনে আরা বেগমের নামে ব্যবহৃত নম্বরের জায়গায় হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা মায়ার নম্বর দেওয়া হয়েছে।

বয়স্ক ভাতার তালিকায় আজিজুল হক তালুকদারের নামের পাশে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে নিজেকে হাবিবুর রহমানের ছেলে অমিত বলে পরিচয় দেন এক ব্যক্তি। তিনি বয়স্ক ভাতার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান এবং এ বিষয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ভুক্তভোগী আজিজুল হক তালুকদার বলেন, সরল বিশ্বাসে মেম্বারের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়েছিলাম। তিনি আমার ও আমার স্ত্রীর নামে ভাতার টাকা নিজের ছেলে ও স্ত্রীর নম্বরে নিয়ে গেছেন। আগে তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেও তিনি বিষয়টি স্বীকার করেননি। পরে নারী মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে এমন আচরণ আসা করি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি এলাকার অনেক মানুষকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি কার্ডে ভুলবশত তাঁর ছেলে ও স্ত্রীর নামে থাকা মোবাইল নম্বর চলে গেছে। কীভাবে এমন হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান।

মনোহরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে কিছু নম্বর বন্ধ থাকায় সেগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউপি সদস্যের মাধ্যমে ভাতার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ওই টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন