নরসিংদীতে স্ত্রীকে হত্যার পর কবরস্থানে মাটিচাপা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৩৯) কে হত্যার পর মরদেহ গুম করার ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে মাধবদী থানা পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে স্বামী শরীফ মিয়া (৪২) কে তার শ্বশুরবাড়ী কাঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা এলাকা থেকে আটক করা হয়।
নিহত স্ত্রী হোসনে আরা বেগম কাঠালিয়া ইউনিয়নের নোয়াকান্দা গ্রামের মো: রহমান মিয়ার মেয়ে অভিযুক্ত স্বামী শরীফ মিয়া মাধবদীর ভগিরথপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেন এর ছেলে। সে মাধবদী গরুর হাট বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে কাজ করতেন।
মাধবদী থানা পুলিশ আটককৃত শরীফের বরাদ দিয়ে জানান, গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে জগড়া হয়। জগড়ার এক পর্যায়ে থাপ্পড় দিলে তিনি টিউবওয়েলের ওপর পড়ে অচেতন হয়ে যায়। এর পর থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি। কিন্তু স্বামী শরীফ স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে ঘরের মেঝেতেই লুকিয়ে রাখে। পর দিন ১৮ আগস্ট রাত ১০ টার পর বাড়ির পার্শ্বের একটি কবরস্থানে একাই কাঁধে করে নিয়ে যায় এবং সেখানে মাটিচাপা দিয়ে চলে আসে। সকলকে জানান তার স্ত্রী রাগ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। এরপরদিন ১৯ আগস্ট দুপুরের দিকে মাধবদী থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে মর্মে তার শ্বশুরকে সাথে নিয়ে আসেন এবং একটি সাধারণ ডায়েরী করতে চান। এসময় তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে পুলিশ জিডি না নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলে। সে অভিযোগ দায়ের করে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে যান। পরে পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ তার শ্বশুরবাড়ী থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে জেরা করতে থাকলে এক পর্যায়ে সে স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামাল হোসেন বলেন, স্ত্রী হত্যার দুই দিন পর থানায় এসে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে চায় স্বামী শরীফ মিয়া। এসময় তার কথা বার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক হলে তাকে নজরে রাখি। এক পর্যায়ে তাকে জেরা করলে সে স্ত্রী হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন এবং লাশ কোথায় মাটিচাপা দিয়ে রেখেছে সে ঘটনার বর্ণনা দেন।
তিনি আরো জানান, লাশ উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আসছেন। তিনি আসার পরই লাশ উত্তোলন করা হবে। আমরা ওনার জন্য অপেক্ষা করতেছি।



