২৪ জেলেকে ফেরত দিল আরাকান আর্মি
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
ধরে নিয়ে যাওয়া ২৪ জেলেকে ফেরত দিল আরাকান আর্মি
টেকনাফের নাফ নদীর জলসীমার শূন্যরেখায় ২৪ জন জেলে বন্দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির কাছে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি। যাদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশে আশ্রিত ক্যাম্পের রোহিঙ্গা জেলে, বাকি ১৮ জন বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার জেলে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নাফ নদীর শূন্যরেখায় দুই বাহিনীর মধ্যে উক্ত বন্দি বিনিময় হয়। পরে তাদের বিজিবির মাধ্যমে টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে হতে স্বদেশের কোলে তোলা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া টেকনাফ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিঘাটে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরীসহ প্রমুখ।
হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় এবং মানবিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মিয়ানমারে আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় এসব জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে দেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করলে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি তাদের আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আটক জেলেদের সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নির্দিষ্ট স্থানে অথবা তাদের সাজা দিয়ে আটক অবস্থায় রাখা হয়।
উক্ত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক জেলেদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নাফ নদীর শূন্য রেখায় বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমার আরকান আর্মির কাছ থেকে ২৪ জন বন্দিকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিঘাটে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
মিয়ানমার হতে ফিরে আসা সেন্টমার্টিনের ছেড়া দ্বীপের বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ আমি সেন্টমার্টিনের ছেড়া দ্বীপের মাছ শিকার করার সময় হঠাৎ মিয়ানমার হতে আরাকান আর্মি এসে আমাদেরকে সাগরে ঘিরে ফেলে। পরে তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আমাদের আটক করে এবং আমাদের আত্মসমর্পণ করান। এরপর তারা আমাদের ধরে নিয়ে যায় ও দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখে। এ সময় আমাদের অল্প করে খাবার দিতেন এবং তিন বেলা বিভিন্ন প্রকার কাজ করাতেন। আজ বাংলাদেশের বিজিবির প্রচেষ্টায় আমরা দেশে ফিরে এসেছি, আমাদের অনেক আনন্দ লাগছে। তাই বিজিবিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানান, আমার সেন্টমার্টিন এলাকার যে কয়জন জেলে মিয়ানমার আরাকান আর্মির হাতে বন্দি ছিল তারা সবাই আজ বিজিবির প্রচেষ্টায় ফিরে এসেছে। তাদের ফিরে আসার বিষয়ে বিভিন্ন সময় তাদের নাম-ঠিকানা বিজিবিসহ যে প্রশাসন চেয়েছে তা তদন্তের মাধ্যমে সঠিক করে দ্রুত দিয়েছি, যাতে তারা পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারে।



