বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরেছে পারনী খালে
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
বিকালের শেষ আলোয় খালের পানিতে ঝিলমিল করে সূর্যের আভা। চারপাশে সবুজ ফসলের মাঠ, খোলা আকাশ আর মৃদু বাতাস। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে পানিতে এগিয়ে চলে নৌকা। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন, আবার কেউ মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করছেন প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি সেতু এলাকায় এখন বিকেল হলেই এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে।
শেরপুর-কাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে স্থানীয়ভাবে ‘পারনী খাল’ নামে পরিচিত খালটি বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আশপাশের মাঠের পানি অনেকটা নেমে গেলেও খালে এখনও রয়েছে পর্যাপ্ত পানি। আর সেই পানিতেই চলছে নৌকা ভ্রমণ। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে এখানে বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড়।
শনিবার (১৬ অগাস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে বোয়ালকান্দি সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা। শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের ধুনট উপজেলা থেকেও অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। বিকেল গড়িয়ে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
নৌকায় ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, শেরপুর শহরে বিনোদনের জন্য তেমন কোনো উন্মুক্ত জায়গা নেই। তাই বর্ষা মৌসুমে পারনী খালের পানিতে নৌকায় ঘুরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুটা সময় আনন্দে কাটাতেও জায়গাটি বেশ উপযোগী বলে জানান তারা।
দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে বোয়ালকান্দি সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। সেখানে আখের রস, ফুচকা, মাঠা, বাদাম, বুটকালাইসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার বিক্রি হচ্ছে। এতে স্থানীয় কিছু মানুষও মৌসুমি ব্যবসার মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণ দিনের তুলনায় ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই পরিবার নিয়ে এখানে ছুটে আসেন। খালের পানি, সবুজ মাঠ ও খোলা পরিবেশ মিলিয়ে স্থানটি বর্ষাকালে এক ধরনের প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিয়ার উদ্দিন বলেন, এলাকায় সরকারি কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। ফলে বোয়ালকান্দির এই খোলা প্রকৃতিই মানুষের কাছে বিনোদনের আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে। বর্ষায় খালে পানি থাকায় নৌকা ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং দিন দিন এখানে মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে বোয়ালকান্দির পারনী খাল ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশকে একটি সুন্দর বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন মানুষের বিনোদনের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



