গাছ কেটে পাখির বাসা-ডিম ধ্বংস, অভিযুক্ত আজাহার আলী গ্রেপ্তার
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে গাছ কেটে পরিযায়ী শামুকখোল পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংসের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজাহার আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজাহার আলীকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে জঙ্গল থেকে তাঁকে আটক করে। শনিবার (১৫ আগস্ট) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আজাহার আলী তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা জলপাই ও পিতরাজ প্রজাতির সাতটি বড় গাছ কেটে ফেলেন। এসব গাছে কয়েকশ পরিযায়ী শামুকখোল পাখি দীর্ঘদিন ধরে বাসা তৈরি করে বসবাস করছিল। গাছগুলো কেটে ফেলার পর পাখির বাসাগুলো মাটিতে পড়ে যায়। এতে বিপুলসংখ্যক ডিম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য পাখির ছানা মারা যায়।
এ ঘটনায় বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন পারভেজ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে শেরপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত আজাহার আলীকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন বলেন, তদন্তে গাছ কেটে পাখির বাসা ও ডিম নষ্ট করার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা’র সভাপতি সোহাগ রায় বলেন, রামনগর গ্রামে ২০১৪ সাল থেকে পরিযায়ী শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসবাস করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে পাখিদের বিচরণ ও প্রজননের কারণে এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘পাখি কলোনি’ নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, গত ৮ আগস্ট গাছ কাটার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে বন বিভাগ ও প্রশাসন ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত রামনগরের ‘পাখি কলোনি’ রক্ষায় প্রশাসন ও বন বিভাগের আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পাখির আবাসস্থল ধ্বংসের প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন তারা।



