কলমাকান্দায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত শতাধিক
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়া এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আমগড়া ও পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় প্রায় ১৮ কাঠা জায়গাজুড়ে পুরোনো ওই গোরস্থানটি অবস্থিত। গোরস্থানের রাস্তার পাশের অংশে আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন। তাঁদের দাবি, জায়গাটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং কেবল কবরস্থান হিসেবেই ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।
এ নিয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমগড়া ও নল্লাপাড়ার কয়েক শ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের এলাকায় হামলা চালান। এতে ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর করা হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান। তাঁদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গোরস্থানের আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তাঁদের পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



