মাদ্রাসার মাঠে বালুর ব্যবসা, দুই বছরেও ব্যবস্থা নেই
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় হিলফুল ফুজুল দাখিল মাদ্রাসার খেলার মাঠ দখল করে প্রায় দুই বছর ধরে বালুর ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মাঠে বালু মজুত থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। বালুর ধুলায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফ বলেন, মাঠ দখল করে বালুর ব্যবসা বন্ধ করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সাদেক, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক, এরশাদ ও সৈকতসহ কয়েকজন এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, কলমাকান্দার মহাদেও ও ধেনকি নদ এবং লেংগুরার গণেশ্বরী নদ থেকে উত্তোলন করা বালু নৌকায় এনে ডেট্টাখালী ঘাট, পাগলা, শ্যামপুর ও তেঘরিয়া এলাকায় মজুত করা হয়। পরে ড্রামট্রাক ও লড়িতে করে এসব বালু বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে বালু রাখায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না। বালুর ধুলা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় পড়াশোনায়ও সমস্যা হচ্ছে।
মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফ বলেন, শ্যামপুর বাজারে এসে কিছু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চলে যান—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। তিনি অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে সিধলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা ও জরিমানা করে আসছে।



