নরসিংদীতে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরায় সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে হৃদয় মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী কামাল মিয়া (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের সাচিয়াপারা এলাকায় সৌদি প্রবাসী আব্দুল সালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় পাড়াতলী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি গ্রামের দানু মিয়ার ছেলে এবং আহত কামাল একই গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী আব্দুল সালাম ১০ দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। তার দেশে আসার খবর পেয়ে সোমবার রাত ৩টার দিকে স্থানীয় একটি চোরচক্রের চার সদস্য তার বাড়িতে চুরি করতে আসে। এ সময় হৃদয় মিয়া ও তার সহযোগী কামাল মিয়া প্রবাসীর বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে পড়ে। চক্রের অপর দুই সদস্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিল।
পরে বাড়ির সদস্যরা চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় হৃদয় ও কামালকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদয় মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত কামাল মিয়াকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় , হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এক বছর আগে তাকে এসব অভিযোগে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হন হৃদয়। পরে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে জেলগেট থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যায় হৃদয়। পরে পুলিশ তাকে আবার গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আবার চুরি করতে বের হয়।
পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফুল মিয়া জানান, হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর চাপের মুখে কিছুদিনের জন্য এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। পরে ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরে একই ধরনের অপরাধে জড়ানোর অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও চুরিতে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি আরও জানান, রাত ৩টার দিকে পাড়াতলী ইউনিয়নের সাচিয়ামারা এলাকার প্রবাসী আব্দুস সালামের একটি ভবনে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন হৃদয় ও তার সহযোগী কামাল। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দুজনকে আটক করেন। পরে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। এতে হৃদয় গুরুতর আহত হন এবং তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারজানা আক্তার জানান, সোমবার সকালে দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে হৃদয় নামে একজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়। অপর ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, রাতে চুরি করতে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে মারধর করেন। ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এক বছর আগে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়।



