Logo
Logo
×

সারাদেশ

সোনারগাঁয়ে টিসিবি পণ্যের ডিলার নিয়োগ যাচাই বাছাইয়ে নয় ছয়

Icon

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

সোনারগাঁয়ে টিসিবি পণ্যের ডিলার নিয়োগ যাচাই বাছাইয়ে নয় ছয়

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে টিসিবি ডিলার নিয়োগে সরকারের দেয়া নীতিমালা না মেনে বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বারদী ও কাঁচপুর ইউনিয়নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে ডিলার নিয়োগ করায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলমের বিরুদ্ধে নীতিমালা ভঙ্গ করার এ অভিযোগ উঠে। তার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের নীতিমালা ভঙ্গ করে। 

জানা যায়, ট্রেডিং করর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পন্যের ডিলারশীপ নিয়োগের জন্য উপজেলার কাঁচপুর ও বারদী ইউনিয়নের ৯ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। আবেদনকারীদের প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী কিনা, মুদি ব্যবসায়ী হিসেবে তাদের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা, মুদি দোকান আছে কিনা, দোকানে ১০ মেট্রিক টন পন্য ধারণ ক্ষমতা উপযোগী স্থান আছে কিনা, আবেদনকারীরা সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিনা তদন্ত করার জন্য সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতকে দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার দায়িত্ব  সোনারগাঁ উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলমের কাছে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সোনারগাঁ উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলম তদন্ত করে গত ৬ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে জান্নাতুল স্টোরের মালিক জামাল হোসেন ও ফাহিমা এন্টারপ্রাইজকে ডিলারশীপ নিয়োগ করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। 

অভিযোগে রয়েছে, নীতিমালা তোয়াক্কা না করে জান্নাতুল স্টোর ও ফাহিমা এন্টারপ্রাইজ নামের দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে জান্নাতুল স্টোর ও ফাহিমা এন্টার প্রাইজ কোন মুদি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে শান্তির বাজার দেখা যায়, জান্নাতুল স্টোরের মালিক কোন মুদি ব্যবসায়ী নন। মালিক জামাল হোসেন ওই দোকানে কোকারিজ পন্য বিক্রি করছেন। দোকানের সাইনবোর্ডে ও জান্নাতুল কোকারিজ লেখা রয়েছে। সেখানে মুদি পন্যের কোন অস্তিত্ব নেই।

অন্যদিকে বারদী বাজারে গিয়ে জানা যায়, বারদী বাজারে ফাহিমা এন্টারপ্রাইজ নামে কোন মুদি দোকান নাই। লোকমান নামের এক ব্যক্তির দোকানকে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে তার নিজের দোকান বলে দাবি করেন। তবে ফাহিমা আক্তার নিজেই দাবি করেন তার কোন মুদি দোকান নেই। তিনি মুদি ব্যবসায়ী নন। এছাড়াও তার স্বামী সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশে কর্মরত আছেন।

সূত্র জানায়, জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলমের তদন্তের পর সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম হোসেন দিপুর আত্মীয় হওয়ার কারনে এ দুটি আবেদনকারীকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে ডিলারশীপ প্রদান করার সুপারিশ করা হয়। জান্নাতুল স্টোরের মালিক জামাল হোসেন সেলিম হোসেন দিপুর ভাই বলে জানা যায়। এছাড়াও ফাহিমা এন্টারপ্রাইজের মালিক ফাহিমা আক্তার ভাগিনার স্ত্রী বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কাঁচপুর ইউনিয়নের ডিলারশিপের জন্য ৪ জন আবেদন করেন। ট্রেডিং করর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার নিয়োগে সরকারের দেয়া নীতিমালা পূরণ করতে না পারায় প্রতিবেদনের তাদের কাউকে সুপারিশ করা হয়নি।

সোনারগাঁ উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলম বলেন, প্রতিটি আবেদনকারীর প্রতিষ্ঠানে তিনি গিয়েছেন। তার বাবা মারা যাওয়ার কারনে তিনি ছুটিতে চলে গেছেন। ইউএনও অফিসের কেউ তার পক্ষে এ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তিনি এ প্রতিবেদন দেননি বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি পুনরায় তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, দুটি ইউনিয়নে ৯ জন আবেদনকারীর তথ্য যাচাই বাছাই করে সঠিক প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।  তবে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে সুপারিশ আছে কিনা জানা নাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন