নরসিংদীর চরাঞ্চলে গুলি করে যুবককে হত্যা, পুলিশের নিস্ফল অভিযান
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত আটটারদিকে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখন নগর গ্রামে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও কাউকে গ্রেপ্তার বা কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত সুমন মিয়া বাখন নগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। সে আলোকবালী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাবেক সভাপতি কাইয়ুম মিয়ার ভাতিজা।
নিহতের স্বজনরা জানায়, নিহত সুমন মিয়া ও তার বোন সোনিয়া বাড়ির অদূরে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। ওই সময় ১০ থেকে ১৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুমনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে হেচঁরে নিয়ে যায়। পরে বাখননগর বাজারের একটি চা স্টলের সামনে নিয়ে তাকে এলোপাথারী গুলি করে ফেলে যায়। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাইয়ের মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের বোন সোনিয়া। তিনি আহাজারী করতে করতে বলেন, আমার ভাই কয়েকদিন পর বিদেশে চলে যাবে। তার স্ত্রী গর্ভবতী, আমর ভাই কোন দল করে না। তার কোন শত্রুতা নেই। কিন্তু হাবি, মিটুল, মাইনুদ্দিন, কালা আমার ভাইকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলে। আমার ভাইয়ের সন্তানদের কি হবে? আমি আমার ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা অফিসার (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, আলোকবালী থেকে সুমন মিয়া নামে এক তরুণকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার বুকসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
এদিকে হত্যাকান্ডের ঘটনায় আলোকবালীতে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালন করেন জেলা পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘ অভিযানেও কাউকে গ্রেপ্তার বা কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। অভিযানে ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীনসহ একদল পুলিশ।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। এছাড়া হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



