গণমাধ্যমবিমুখ কুড়িগ্রাম ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ ফোন ধরেন না, ভিডিও বার্তাও দেন না
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলা, ফোন রিসিভ না করা এবং ক্যামেরার সামনে ভিডিও বক্তব্য দিতে অনীহার অভিযোগ তুলেছেন জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। সাংবাদিকদের দাবি, জেলার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, উন্নয়ন ও সংকট নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময় জেলা প্রশাসক ফোন না ধরে "Please text me" লিখে বার্তা পাঠান। আর সরাসরি সাক্ষাৎ হলেও ক্যামেরায় বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সময় টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি বাদশাহ সৈকত পাঁচ বছর ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে তার কার্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর পরও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
বাদশাহ সৈকতের ভাষ্য, বক্তব্য না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, "আমিসহ আমার প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরায় কথা বলবে না।"
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাদশাহ সৈকত লেখেন, "কোন গোপন রহস্যে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জানতে চায় জাতি!"
সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জেলার কোনো গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দেননি। এমনকি তার অনুমতি ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারাও ক্যামেরায় কথা বলতে অনাগ্রহী। এতে প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
ডিবিসি নিউজের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন বলেন, জেলার উন্নয়ন, সমস্যা কিংবা সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে চাইলেই তিনি নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান।
এসএ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন নারী জেলা প্রশাসকের মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে বলে তার দাবি। (এটি বক্তার ব্যক্তিগত মতামত।)
চ্যানেল ওয়ানের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক জনগণের সেবক। গণমাধ্যম জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশ্ন করবে, আর সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলা মানে জনগণের কাছেই জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়া।
দেশ টিভির প্রতিনিধি জুয়েল রানা বলেন, তিনি যতবার জেলা প্রশাসকের কাছে বক্তব্য নিতে ফোন করেছেন, অধিকাংশ সময়ই ফোন না ধরে "Please text me" লিখে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগ বলেন, "আমি মনে করি সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন না হওয়া নব্য ফ্যাসিবাদের লক্ষণ এবং এটি অচিরেই সমাধান হওয়া দরকার। ডিসি জেলার তিন শতাধিক কমিটির সভাপতি শুধু সমস্যা নয়, সমাধানের আগে কি কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেগুলো খোলাসা করা উচিত। আজকে তিনি সাংবাদিকের সাথে যা করেছে তা নিন্দনীয় কাজ। সাংবাদিক দু'ঘটন্টা বসিয়ে রেখে বক্তব্য না দেয়া সাংবাদিকদের প্রতি ডিসির অসম্মানের চুড়ান্ত একটা পর্যায়।"
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওযা যায়নি।



