আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন একঝাঁক তরুণ মুখ
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড এ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জোরদার হতে শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা বা প্রতীক বরাদ্দ না হলেও এখনই সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল ও উদ্দীপনা তুঙ্গে। বিশেষ করে ৯ নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদপ্রার্থী হিসেবে একঝাঁক তরুণ নতুন ও প্রবীণ মুখের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এবার ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রার্থিতা জাহির করছেন বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী। সম্ভাব্য এসব প্রার্থীরা স্থানীয় সামাজিক অনুষ্ঠান, হাটে-বাজারে, চায়ের দোকানে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কয়েকজন ,তারমধ্যে এলাকার সমাজসেবক বর্তমান মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন পন্ডিত,তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত। প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি জানান, "এলাকার তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত করা এবং সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকা রাস্তাঘাটের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করাই আমার মূল লক্ষ্য। বিগত দিনে আমি অনেক উন্নয়ন করেছি ফলে সেটির ফলাফল যাচাই ও জনগণের ভালোবাসা পেয়েই আমি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" এবং এটি হয়তো আমার শেষ নির্বাচন।
অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শাহ আলম একুশ। তিনি বলেন, "বর্তমান সময়ে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমি ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডে রূপান্তর করতে চাই।"
এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আব্দুর রহিম ও সোলেমান খোকন। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, "বিপদে-আপদে সবসময় ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। ভোটাররা যদি তাদের মূল্যবান রায় দিয়ে আমাকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করব।"
এ দিকে তরুণ প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া বলেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সুখ-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছি। করোনাকালীন সহায়তা, অসচ্ছল পরিবারকে গোপনে সাহায্য এবং সামাজিক উন্নয়নে পাশে থেকেছি। ফলে তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে প্রবীণ ভোটারদের মাঝেও আমাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন সচেতন ভোটারের সাথে কথা বললে তারা জানান, কেবল নির্বাচনের আগে মিষ্টি কথা নয়; যিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করবেন, বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন এবং পরিষদের বরাদ্দ সঠিকভাবে পৌঁছাবেন—এমন যোগ্য প্রার্থীকেই তারা নির্বাচিত করবেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর এই নির্বাচনী প্রচারণা আরও জমে উঠবে এবং প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন রূপ নেবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল।



