কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় সৈকত এলাকায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের সব পয়েন্টে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। পরে সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টসের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। জব্দ করা হয় প্যারাসেইলিংয়ের সরঞ্জাম।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জনান, অভিযানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, অ্যাসেম্বল ও ডিসঅ্যাসেম্বল করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয় থেকে সাতটি জেরিক্যান ভর্তি জ্বালানি এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসও জব্দ করা হয়েছে।
গত শনিবার (১ আগস্ট) বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় সেখান থেকে ছিটকে পড়ে শৌভিক রয় নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই নিরাপত্তাহীন এ বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে ওঠে নানা প্রশ্ন।
এদিকে, প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটক শৌভিক রয় নিহতের ঘটনায় রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিহতের বোন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
পর্যটকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন, সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা কিংবা জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি নিশ্চিত না করেই চলছে প্যারাসেইলিং। তাই সৌভিকের মৃত্যুর পর আতঙ্ক বেড়েছে পর্যটকদের মাঝে।
এ বিষয়ে জেলা প্রসাশক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলা প্রসাশন এ সব প্যারাসেইলিং এর অনুমোদন দেয়নি এবং ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভের পাশে সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।



