কুড়িগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশের ওপর হামলা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত এক নকলনবিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কুড়িগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে। আহত নকলনবিশ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবিশ মনিরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্ববিরোধের জেরে কয়েকজন দলিল লেখক তার কক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর হাতেও গুরুতর জখম হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোছা. বেবী নাজমিন বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন-আবুল কালাম আজাদ, হায়দার আলী, আবুল হোসেন, নুরাউল উদ্দিন, রেজোয়ানুল হক জীবন, আশিক মিয়া ও জাহিদুল হক। এ ছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে জিম্মি করে রেখেছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। আজকের ঘটনায় আমরা কাউকে আঘাত করিনি। হট্টগোলের সময় মনিরুলের কপালে টেবিলের সঙ্গে লেগে রক্ত বের হয়। এখন আমাদের ফাঁসাতে মামলা করা হয়েছে।
বাদী বেবী নাজমিন বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কুড়িগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



