নরসিংদীতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের তারাইল উপজেলার তালজাঙ্গা গ্রামের ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতে থাকেন রূপা। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে স্বামীকে দেন। এরপরও আরও টাকা আনার জন্য তার ওপর চাপ অব্যাহত থাকে স্বামী রূপা।
সুমির পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে না পারায় তিনি স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে সংসারের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকাকালে উপার্জিত অর্থ নিয়মিত স্বামীর কাছে পাঠাতেন।
দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফেরেন সুমি। দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থের যথাযথ হিসাব নেই। এদিকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আবারও টাকার দাবি করেন স্বামী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে নূর আলম রূপা স্ত্রী সুমিকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
পরদিন ১৯ নভেম্বর সকালে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর নিহতের বাবা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার সকল তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।



