Logo
Logo
×

সারাদেশ

ভারতে পালাচ্ছিলেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

Icon

যশোর ব্যুরো

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

ভারতে পালাচ্ছিলেন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার

চট্টগ্রাম মহানগরীর আলোচিত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতারতরা হলেন- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর বুড়ো মিয়া হাজি চৌধুরী বাড়ির মো. মুসার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), তার সহযোগী ঢাকার শ্যামপুরধীন মোল্লারবাগ এলাকার মোহাম্মদ জাফরের ছেলে ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), ঢাকার মতিঝিল থানার আরকে মিশন রোড এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. শামিম (২৮) এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার গোলাপবাগ পুলিশ কোয়ার্টারের পেছনের এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে সাফায়েত হোসেন (২৮)।

বুধবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার রাত ৩টার দিকে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, যশোর হয়ে তারা ভারতে পালিয়ে যাচ্ছিলেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরী এবং রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলায় বেশিরভাগ চাঁদা দাবি ও হামলার নেপথ্যে রয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারীরা। এক সময় ছোট সাজ্জাদ বড় সাজ্জাদের হয়ে সব অপরাধ করে বেড়াতেন। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর মোবারক হোসেন ইমন এবং মোহাম্মদ রায়হান নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এই দুইজন একের পর এক অপরাধ করে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করা হলো।

গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় প্রতিষ্ঠানটিতে বেতনের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি এ হামলা চালান। অথচ এর আগে গত শনিবার (১১ জুলাই) ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে ডিডিএন মালিক আদিল বিন মামুনের মোবাইল ফোনে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করা হয়।

এতে ডেভিড ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দেবেন। আর প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে দেবেন। না হলে এখন থেকে আমার ছেলেরা ব্যবসা করবে। আপনি আমার ডিটেইলস পুলিশ কমিশনার থেকে জিজ্ঞেস করেন। আপনি আমাকে না চিনলে পুলিশ কমিশনারকে আমার নাম্বারটা দেখাইয়েন। ব্যবসা এখন থেকে আমরা করব। আপনারা করিয়েন না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে স্মার্ট গ্রুপের মুজিবের ঘরে কী হয়েছিল ওটা দেখেছেন তো। মুজিব থেকে গিয়ে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তাহলে বুঝবেন।’

এই হুমকির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ডিডিএন অফিসে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সিনেমার স্টাইলে হামলা-ভাঙচুর ও লুট করা হয়। ব্যবসা বন্ধ রাখতে হুমকি দিয়ে গেছেন তারা। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালায়। গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন