খাল খননে শতভাগ কাজ শেষে পরিদর্শন করেই বিল পরিশোধ: এমপি জিএম সিরাজ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ এএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চলমান খাল পুনঃখনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি জানিয়েছেন, খালের শতভাগ খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। এরপরই ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঝাঁজর-পারভবানীপুর খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশব্যাপী কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএনপি সরকারের ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য খালের খননের গভীরতা, প্রশস্ততা, পাড় বাঁধাইয়ের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।
সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগে এই খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষির সার্বিক উন্নয়ন এবং বছরের সব মৌসুমে পানিপ্রবাহ সচল রাখাই আমাদের লক্ষ্য। তাই কাজের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন শেষ হলে শত শত একর অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং কৃষকরা সেচ সুবিধা পেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ প্রকল্পের অগ্রগতি ও কারিগরি বিষয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন, উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন, খামারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাইকোবাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাবসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, ভদ্রাবতী, চকরামপুর ও একদুলতলা খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট ৯ দশমিক ০৩ কিলোমিটার খালের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ। সরকারি বিধি অনুযায়ী এ পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধের সুযোগ থাকলেও কাজের মান যাচাইয়ের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত মাত্র ২৮ শতাংশ বিল ছাড় করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঝাঁজর, পারভবানীপুর, মেই খাল, কৈগাড়ী ও দুধকমাড় খাল প্রকল্পে মোট ৯ দশমিক ০৯ কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ৭১৫ কিলোমিটার খনন শেষ হয়েছে। ঝাঁজর এলাকার খননকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও গুণগত মান যাচাই ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ঠিকাদারকে এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ খাল পুনঃখনন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



