ঈশ্বরগঞ্জে চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা, থানায় চাচার অভিযোগ
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
প্রবাসীর স্ত্রী চাচি ও ভাতিজা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বু-দেবস্থান গ্রামে। এ নিয়ে ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়ার স্বামী বাদী হয়ে গত ১৫ জুলাই ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্বামী মনি চন্দ্র দে (৩২) এর সঙ্গে স্ত্রী ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়া (২৫)-এর ৭ বছরের সংসার। তাদের ঘরে ছয় বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযোগে মনি চন্দ্র দে দাবি করেন, ছেলেকে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন তার স্ত্রী।
একপর্যায়ে চলতি মাসের ১ জুলাই নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে (২৭) ভাতিজার হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান ঝর্ণা রানী।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্রের সাথে চাচি ঝর্ণা রানীর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি সত্য। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পরে মনি চন্দ্রকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুদ্র ও তার পরিবারের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্রের চাচা রনজিত চন্দ্র দে বলেন, “আমার ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে ঝর্ণা রানীর মোবাইলে সম্পর্ক ছিল। তবে আমার ভাতিজা তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়নি। বরং ঝর্ণা রানী তার স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। বাদী এবং অভিযুক্ত ভাতিজার চাচার কথা মিল না পাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং তাদের উদ্ধারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।



