রূপগঞ্জে সরকারি টাকায় খাল ভরাট, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা রূপগঞ্জ উপজেলায় ভুলতা ইউনিয়নে সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে।
উপজেলা পরিষদের প্রায় ২৮ লাখ টাকা অর্থায়নে এই বিতর্কিত রাস্তাটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তাটি নির্মাণ করতে গিয়ে খালের মধ্যে মাটি ও বালু ধসে পড়ছে এবং খালের বেশ কিছুটা অংশ ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন নিয়ে টানা দুইবার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়া। বর্তমানেও তিনি ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভুলতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ লোকজনের চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা হলেও সেদিকে নজর না দিয়ে তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাড়ির ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ বাগিয়ে নেন—যদিও তার বাড়িতে যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই বিকল্প পথ রয়েছে। ৭৫ মিটার দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তাটির নির্মাণকাজ করছে ‘আল গনি বিল্ডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খালের একাংশ দখল করে গজারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে পাইলিংঘের তৈরি করা হয়েছে। এরপর সেখানে মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে, যার ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, চেয়ারম্যান আরিফুল হক বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কাজ করেছেন, আর বর্তমানেও নানা কৌশলে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। নদী-খাল রক্ষার সরকারি নির্দেশনার মধ্যেও সরকারি টাকায় খাল দখল করে নিজের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণকে স্থানীয়রা দুঃসাহসিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। মাত্র ৭৫ মিটার রাস্তার জন্য প্রায় ২৮ লাখ টাকার সরকারি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আরিফুল হক ভূঁইয়ার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। এটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয় বরং এলাকার সর্বসাধারণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অপপ্রচার। রাস্তাটি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য করা হয়নি এটি সর্বসাধারণের যাতায়াতের জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে। খাল দখলের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা । আমি সাংবাদিকদের বিনীত অনুরোধ করছি আপনারা সরেজমিনে এসে নিরপেক্ষ তদন্ত করুন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য সবার সামনে উঠে আসুক।
রূপগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের সড়ক কখনোই কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয় না, এটি সম্পূর্ণ জনস্বার্থে করা হয়। খাল ভরাটের কোনো অনুমোদন বা ইস্যু এখানে নেই; মূলত খালের পাড় ও রাস্তার সুরক্ষার জন্যই প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়েছে। আমাদের পরিদর্শনে কোনো প্রকার অনিয়ম বা খাল ভরাটের সত্যতা পাওয়া যায়নি। যদি কেউ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য রাস্তা ব্যবহারের দাবি বা চেষ্টা করে থাকে তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সরকারি খালের একাংশ ভরাট করে সরকারি টাকায় ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা জানি এটি ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য চলাচলের রাস্তা। এছাড়া কারো ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের সুযোগ নেই। যেহেতু জেনেছি যদি এমনটি হয় তাহলে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে।



