অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দায় সড়ক, কৃষিজমি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
অতিবৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে একাধিক সড়ক ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নদীভাঙনে ফসলি জমিতে বালু জমে আবাদ নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ভেসে গেছে শতাধিক মাছের পুকুর এবং আমনের বীজতলা।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চবিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চবিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ঢলের পানিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। চেংনী নদীর ভাঙনে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে।”
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক বলেন, “পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়কও ভেঙে গেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আমনের বীজতলা ও শতাধিক মাছের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ভোগান্তি পোহাতে হলেও এবার পানির স্রোত তুলনামূলক বেশি ছিল। এতে সড়ক, কৃষিজমি, বসতবাড়ির আশপাশ এবং মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।



