মনোহরগঞ্জের ছয় যুবক লিবিয়ায় দালালের খপ্পরে
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ছয় যুবক ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় দালালের খপ্পরে পড়েছেন। পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দাবি করা হচ্ছে দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ। দাবিকৃত টাকা অনাদায়ে প্রতিনিয়ত চলছে অমানবিক নির্যাতন। ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিক মিয়া (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) ও উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহআলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।
ভুক্তভোগী মানিক মিয়ার বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, ‘তার নিজ গ্রামের (দিশাবন্দ) বাসিন্দা বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রায় ৯ মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কিছুদিনের মধ্যে তাকে ইতালি নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তাকে দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে দালাল চক্রের হাতে জিম্মি আমার ছেলে। মুক্তিপণের নামে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে।’
একই অভিযোগ করেছেন উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলম। তিনি বলেন, আট মাস আগে নগদ ১৮ লাখ টাকা জমা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাঠান। এ বিষয়েও দফায়দফা হয় মানিকের ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে। বর্তমানে দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় মুক্তিপণের টাকার জন্য সেও নির্যাতনের শিকার।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, তাদের সন্তানদের ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া নিয়ে প্রায় আট মাস তার কাছে (মানিক) রেখে অন্য দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দালালের হাতে তুলে দেওয়ার পর গত ১৫/২০ দিন ধরে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। এদের জন প্রতি ২৭ লাখ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে মুক্তিপণ। ওখানে দাবিকৃত টাকার জোগান দিতে না পারায় তাদের পরিবারের কাছে ইমো, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হচ্ছে নির্যাতনের ধারণকৃত ভিডিও। ভুক্তভোগীদের নির্যাতনের এসব ভিডিও হাতে পেয়ে অসহায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে দালালের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগী সদস্যদের নির্যাতনের ভিডিওচিত্র এলাকায় জানাজানি হলে গত ১০/১২ দিন থেকে মানিকের ভাই সামছুল আলমসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। দালালের হাতে উঠিয়ে দেওয়ার পর লিবিয়া থেকে মানিকও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ফোন ধরছেন না। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদ আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ পথে কে কোথায় কোন দালালের মাধ্যমে কোথায় গিয়ে কীভাবে আছে, এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।’



