নরসিংদীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা ও সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল, পলাশ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর নিবন্ধিত সার ডিলার মো. সাইদুর রহমান হুমায়ুন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী শহরের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পলাশের ঘোড়াশাল সারকারখানা থেকে উৎপাদিত সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে বিসিআইসির নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। সার পরিবহনের জন্য ট্রাকে বস্তা লোডিংয়ের দায়িত্ব বিসিআইসি নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং এ বাবদ বিলও বিসিআইসি পরিশোধ করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, জামালপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট জাকির হোসেন সারবোঝাই প্রতিটি ট্রাক থেকে বেআইনিভাবে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে আদায় করছেন। এভাবে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাইদুর রহমান হুমায়ুন বলেন, অতীতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। তার দাবি, আগের সরকার আমলে দায়ের করা ১২টি মামলায় তিনি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন, যদিও একটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানেও একই ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে পলাশ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মরহুম আখতার ফারুকের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনের বিষয়ে তিনি জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি বিসিআইসির নিবন্ধিত সার ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য ডিরেক্টর জেনারেল পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, সংগঠনের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় গত ৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের ধারাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগে পলাশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, জীবনে কখনো মাদক সেবন তো দূরের কথা, পান বা সিগারেটও গ্রহণ করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে। তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



