শেরপুরের তিন আন্ডারপাসে অবৈধ দখল ও বিশৃঙ্খলা, যানজট-দুর্ভোগে ভোগান্তি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার তিনটি আন্ডারপাস সেতুর নিচে অবৈধ দখল, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ও উল্টো পথে যান চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে ছোনকা ও গাড়িদহ আন্ডারপাস এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ছোনকা আন্ডারপাস সেতুর নিচে অবৈধভাবে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। এছাড়া নাবিল হাইওয়ে হোটেলের কয়েকটি বাস এবং মজুমদার কোম্পানির কিছু ট্রাক নিয়ম অমান্য করে উল্টো পথে চলাচল করায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মির্জাপুর আন্ডারপাস এলাকায় মাঝে মধ্যে পণ্যবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও সেখানে কোনো অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চোখে পড়েনি। তবে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে কখনো কখনো যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সবচেয়ে বেশি অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা গেছে গাড়িদহ আন্ডারপাস এলাকায়। সেতুর দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি মাইক্রোবাস পার্কিং করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে সেলুন ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। উত্তর পাশে মাংস, ফল ও সবজির দোকান বসেছে। এছাড়া আন্ডারপাসের নিচে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত করায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধে ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এসব আন্ডারপাসের নিচে অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “ছোনকা আন্ডারপাসের নিচে অবৈধ দোকান আমি নিজে গিয়ে সরিয়ে দিয়েছি। উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া গাড়িদহ আন্ডারপাসের নিচে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়কের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আন্ডারপাসগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেবে



