৭৩ বছর পর ছোনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ছোনকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ছবি: নজরুল ইসলাম জাকি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছোনকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৭৩ বছর পর সরকারিভাবে বাণিজ্য (ব্যবসায় শিক্ষা) বিভাগের অনুমোদন মিলেছে। ফলে এতদিন বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগের পাশাপাশি এখন থেকে শিক্ষার্থীরা বাণিজ্য বিভাগেও লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘ছোনকা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’ করার দাবিও উঠেছে।
সরেজমিনে বুধবার (১৫ জুলাই) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন বিভাগ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, আগে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়তে হলে অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে হতো। এখন নিজ বিদ্যালয়েই সেই সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমবে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে শুরু থেকেই বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে পাঠদান চালু ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তৎকালীন শিক্ষক মো. আব্দুল কাদের ও মো. ছোহরাব আলী হিসাববিজ্ঞান পড়ালেও সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি চলতি বছরের ৫ মে সরকারিভাবে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অনুমোদন পাওয়ায় এ বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি তুলনামূলক কম হয়েছে।
বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী (রিপন) এবং অপর একজন শিক্ষক বাণিজ্য বিভাগের পাঠদান পরিচালনা করছেন। তবে বিভাগটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রথমেই আমাদের বাণিজ্য বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক দরকার এবং শিক্ষকের চাহিদা জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করা হবে।”
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা আলমগীর বলেন, “বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজের কাছে বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিভাগের অনুমোদনের ফলে এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হলে ছোনকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।



