Logo
Logo
×

সারাদেশ

কাজ শেষ না হতেই ভাঙছে শেরপুরের বউবাজার-খুরতা রাস্তা

Icon

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

কাজ শেষ না হতেই ভাঙছে শেরপুরের বউবাজার-খুরতা রাস্তা

স্বাধীনতার পর এই প্রথম উন্নয়নের ছোঁয়া পেতে যাচ্ছিল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বউবাজার থেকে খুরতা পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কটি। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই স্বপ্ন এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘হেরিং বোন বন্ড’ (এইচবিবি) প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে এবং ইট নড়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টার সময় সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটের ফাঁক অস্বাভাবিকভাবে বেশি। কোথাও কোথাও হাফ ইঞ্চি থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত ফাঁকা রেখে ইট বসানো হয়েছে। প্রকল্পের নকশা ও মানদণ্ড উপেক্ষা করে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশের গাছের গোড়ায় নিয়ম অনুযায়ী ইট না বসিয়ে এলোমেলোভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ইটের নিচের বালু ধুয়ে গিয়ে সড়ক নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ ও খোকন মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আমাদের কাঁচা রাস্তায় উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছিল। আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু যেভাবে ফাঁকা ফাঁকা করে এবং নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হয়েছে, তাতে এই রাস্তা ছয় মাসও টিকবে কি না সন্দেহ।

আরেক বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, সরকার মানুষের সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু কিছু অসাধু ঠিকাদারের কারণে সেই টাকা অপচয় হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বউবাজার থেকে খুরতা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তাই সড়কটি এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শুরু থেকেই নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ধুনট উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ-এর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বার বলেন, “সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী কাজ করেনি, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা সড়কের ত্রুটিপূর্ণ কাজ বন্ধ রেখে বুয়েট বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিম্নমানের কাজ বাতিল করে প্রাক্কলন অনুযায়ী নতুন করে মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, জনগণের করের অর্থে নির্মিত এই সড়ক যেন অনিয়মের কারণে অল্প সময়েই নষ্ট না হয়ে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন