সাগরে ট্রলারডুবিতে কুতুবদিয়ার ৪ জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৪ জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ট্রলারটিতে থাকা অন্য সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া সৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাত জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেন।
কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ডুবে যাওয়া ট্রলারের ভেতর থেকেই পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, টলারে মোট ১২ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিদর্শক ফারুক হোসেন আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাত আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে টলারটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া টলারটি সোমবার রাত ৯টার দিকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে সেখানে তল্লাশী করে ট্রলারের ভেতরে ৪ জেলের মরদেহ পাওয়া যায়।
কুতুবদিয়া মৎস্য ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ অমজাখালীর নুরুল আবছারের মালিকানাধীন এফবি ফকিরা মসজিদ নামে ফিশিং ট্রলারটি ১২ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। ভোরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।
আবুল কালাম বলেন, দুর্ঘটনার পর সাত জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ পাঁচ জেলের সন্ধানে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থানও শনাক্ত করা হয়।
কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে হচ্ছে। আর নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারে স্থানীয় জেলেরা তল্লাশী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ক্ষয়-ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য মতে, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ৯ দিনে কক্সবাজারে ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে কক্সবাজার জেলার ৭১ টি ইউনিয়নে ৫ টি পৌরসভার মধ্যে ৭০ ইউনিয়ন ও ৪ টি পৌরসভার ৪৯ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি ছিলো অন্তত আড়াই লাখ মানুষ।
এর আগে গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ৯ দিনে সরকারি তথ্য মতে পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে ১৩ রোহিঙ্গা সহ ৩০ জন নিহত, নিখোঁজ রয়েছে একজন। যদিও নিখোঁজের মরদেহ ইতিমধ্যে উদ্ধার হয়েছে।



